হনুমানজয়ন্তী ২০২৬: বজরংবলীর কৃপা পেতে বাড়িতে আনুন এই ৪টি জিনিস
প্রতি বছর চৈত্র পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে পালিত হয় হনুমানজয়ন্তী।
২০২৬ সালে এই বিশেষ দিনটি পড়েছে ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নিষ্ঠাভরে হনুমানজির পুজো করলে জীবনের সব বাধা দূর হয়, বিপদ কাছ ঘেঁষতে পারে না এবং বাস্তুদোষ দূর হয়।
জ্যোতিষী জয়দেব শাস্ত্রীর মতে,
“শুধু পুজো নয়, বাড়িতে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস আনলেও হনুমানজি বিশেষ প্রসন্ন হন। এই জিনিসগুলি অশুভ শক্তির বিনাশ করে এবং সৌভাগ্য স্থায়ী করে।”
আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৪টি জিনিস কী কী—
সিঁদুর – ভক্তি ও সুরক্ষার প্রতীক
লাল সিঁদুর যেথায়, বিপদ সেথায় থাকে দূরে।
জ্যোতিষী জয়দেব শাস্ত্রী জানান,
হনুমানজি সিঁদুরকে অত্যন্ত প্রিয় মনে করেন।
শাস্ত্রমতে, মা সীতা হনুমানজিকে সিঁদুর দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন।
সেই থেকেই বজরংবলীর প্রতি সিঁদুর অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
✨ কী করবেন?
হনুমানজয়ন্তীর দিন বাজার থেকে নতুন সিঁদুর কিনুন।
সন্ধ্যায় হনুমানজির মূর্তি বা ছবিতে সিঁদুর লাগান।
এরপর সেই সিঁদুর নিজের তিলক হিসেবে ব্যবহার করুন।
🔮 ফল:
অশুভ শক্তি দূর হয়, বাড়িতে ইতিবাচক কম্পন তৈরি হয়, সৌভাগ্যের আগমন ঘটে।
✅ ২. হনুমানজির ছবি বা মূর্তি – মনোবল ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করে
যে ঘরে বজরংবলী, সেই ঘরে থাকে বলী।
জ্যোতিষী জয়দেব শাস্ত্রীর মতে,
হনুমানজির ছবি বা মূর্তি বাড়িতে রাখলে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
পাশাপাশি, কাজে একাগ্রতা আসে এবং অশুভ শক্তি প্রবেশের পথ বন্ধ হয়।
✨ কী করবেন?
হনুমানজয়ন্তীর দিন একটি নতুন হনুমান মূর্তি বা ফ্রেমবাঁধানো ছবি বাড়িতে আনুন।
তাকে গোলাপী ফুল, সিঁদুর ও বুটের দানা নিবেদন করুন।
বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে বা প্রবেশদ্বারের কাছে স্থাপন করুন।
🔮 ফল:
মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়, অশুভ আত্মার বাধা থাকে না।
✅ ৩. হনুমানের গদা – অশুভ শক্তির বিনাশকারী
গদা যেথায় গর্জে, বিপদ সেথায় সরজে।
গদা হনুমানজির শক্তি ও সাহসের প্রতীক।
শাস্ত্রে বলা আছে, হনুমানজি যেখানে গদা রাখেন, সেখানে অশুভ শক্তি, ভূত-প্রেত বা তন্ত্র ক্রিয়া কাজ করে না।
✨ কী করবেন?
হনুমানজয়ন্তীর দিন একটি ছোট ধাতুর গদা (পিতল, তামা বা লোহা) বাড়িতে আনুন।
প্রথমে সিঁদুর ও জলে তা ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
তারপর হনুমান চালিশা পাঠ করে গদায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করুন।
বাড়ির পূর্ব দিকের জানালা বা মূল ফটকের কাছে রাখুন।
🔮 ফল:
বাস্তু দোষ দূর হয়, গৃহে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না, সবার সাহস ও আত্মরক্ষার ক্ষমতা বাড়ে।
✅ ৪. ছোট তামার কুঠার – গ্রহদোষ ও বাস্তু সমস্যার সমাধান
তামার কুঠার একবার ঘুরে, অশুভ শক্তি থাকে দূরে সুরে।
জ্যোতিষী জয়দেব শাস্ত্রী জানান,
তামার কুঠার একটি প্রাচীন তান্ত্রিক সুরক্ষা যন্ত্র।
হনুমানজয়ন্তীর দিন এই কুঠার বাড়িতে আনলে এটি সব ধরনের নেতিবাচক শক্তি, গ্রহদোষ ও বাস্তু দোষ দূর করতে সক্ষম হয়।
✨ কী করবেন?
হনুমানজয়ন্তীর দিন একটি ছোট তামার কুঠার সংগ্রহ করুন।
তাকে দুধ ও জল দিয়ে শুদ্ধ করুন।
১১ বার "ওঁ হনুমতে নমঃ" মন্ত্র জপ করে কুঠারটিকে সক্রিয় করুন।
বাড়ির প্রধান দরজার উপরে বা পুজোঘরের উত্তর কোণে রাখুন।
🔮 ফল:
বাড়িতে কখনও অশুভ শক্তি টিকতে পারে না। পারিবারিক কলহ কমে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসে এবং আচমকা বিপদ এড়ানো যায়।
📌 জ্যোতিষী জয়দেব শাস্ত্রীর সতর্কবাণী ও বিশেষ পরামর্শ
“এই চারটি জিনিস কেবল বাড়িতে আনলেই হবে না – এগুলিকে শ্রদ্ধা, নিয়ম ও মন্ত্রশক্তির সঙ্গে স্থাপন করতে হবে।
অশ্রদ্ধা বা অশুদ্ধ উদ্দেশ্যে রাখলে ফল মেলে না।
হনুমানজি শুদ্ধ ভক্তের কামনা পূর্ণ করেন, কিন্তু অপব্যবহার করলে ফল বিপরীত হয়।”
✅ ধারাবাহিকভাবে করণীয়:
প্রতিটি জিনিস হনুমান চালিশা পাঠ করে স্থাপন করুন।
এগুলিকে মঙ্গলবার ও শনিবার সিঁদুর ও ফুল দিয়ে স্পর্শ করুন।
বাড়িতে কখনও অশ্লীল কথা বা কাজ হলে এই জিনিসগুলির প্রভাব ক্ষীণ হতে পারে।
🧲 শেষ কথাঃ সৌভাগ্য চিরস্থায়ী করতে আজই ব্যবস্থা নিন
হনুমানজয়ন্তী শুধু একটি ধর্মীয় দিন নয় – এটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী বর্ম তৈরি করার দিন।
জ্যোতিষী জয়দেব শাস্ত্রীর দেওয়া এই ৪টি সহজ অথচ শক্তিশালী পদ্ধতি মেনে চললে:
🔹 বাস্তু দোষ দূর হয়
🔹 বাড়িতে নেতিবাচক শক্তি থাকে না
🔹 অশুভ আত্মা বা কুনজরের প্রভাব পড়ে না
🔹 সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি স্থায়ী হয়