জয় মা ষষ্ঠী। জয় শ্রী শনি মহারাজ।
আজ সকালে একটা ফোন পেলাম। ওপাশ থেকে খুশির গলা, “দাদা, আমার মেয়ে জামাই কাল বাড়ি আসছে। অনেকদিন বাদে জামাইষষ্ঠীতে একসঙ্গে সবাই।” ফোনটা রেখেই মনে হলো, সত্যিই তো! জামাইষষ্ঠী মানে কেবল খাওয়া-দাওয়া আর উপহার নয়। এ যেন এক আশীর্বাদের বাঁধন। শাশুড়ি যখন মেয়ে-জামাইয়ের কপালে ফোঁটা দেন, হলুদ সুতো বাঁধেন, পাখার হাওয়া দেন, তখন শুধু লোকাচার পালন হয় না, মা ষষ্ঠীর শুভ্র কৃপা নেমে আসে গোটা পরিবারে।
এবারের জামাইষষ্ঠী একটু বেশিই স্পেশাল। ২০২৬ সালে দিনটা পড়েছে ২০ জুন, শনিবার। মানে একসঙ্গে মা ষষ্ঠীর মাতৃশক্তি আর শনিদেবের কর্মফলের শক্তি— এই দুই তিথির মিলন ঘটেছে। যে-কোনও বাঙালি গৃহস্থের কাছে এ এক অসাধারণ যোগ। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে, সংসারে টাকা ধরে রাখতে, সন্তানের মঙ্গল কামনায়, কিংবা অদৃশ্য নজরদোষ সরাতে— এই দিনটির শক্তি কয়েকগুণ বেশি। আসুন, খুব সহজে, মনের কথার মতো করে জামাইষষ্ঠীর গভীর তত্ত্ব আর কিছু নিরাপদ, ঘরোয়া প্রতিকার জেনে নিই, যাতে পরিবারে সত্যিই সুখ আর স্থিরতা আসে।
শুধু আদর নয়, এটি এক মাতৃশক্তির ব্রত
মা ষষ্ঠী কে? যিনি সন্তানের রক্ষা করেন, যে ঘরে সদ্যোজাত শিশু থাকে সেখানে মা ষষ্ঠীর ঘট প্রতিষ্ঠা হয়। তিনিই গৃহলক্ষ্মী, বংশরক্ষার দেবী। কন্যাকে সুরক্ষিত রাখা, জামাইয়ের আয়ু বাড়ানো, ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গল— সবই মা ষষ্ঠীর ওপর নির্ভর করে। তাই জামাইষষ্ঠীর দিন কেবল পঞ্চব্যঞ্জন নয়, বরং শুদ্ধ মনের প্রার্থনা আর মাতৃশক্তির কাছে নিজের সংসার সঁপে দেওয়াই আসল।
এই দিনে যা যা করা হয়, তার প্রতিটির তত্ত্ব আছে। কপালে ফোঁটা— শুভ শক্তির ঢাল। হলুদ সুতো— মঙ্গলবন্ধন, অশুভকে দূরে রাখা। ফল— বংশবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি। মিষ্টি— সম্পর্কের মাধুর্য। ধান-চাল— অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ। দূর্বা— আয়ু ও স্থায়িত্ব। জল— জীবনশক্তি। যখন শাশুড়ি এসব দিয়ে আশীর্বাদ করেন, তখন আসলে মা ষষ্ঠী নিজেই জামাইয়ের কপালে হাত রাখেন। তাই মনটা পরিষ্কার, ইগো শূন্য রেখে করবেন, তবেই আসল ফল পাবেন।
২০২৬ সালের জামাইষষ্ঠী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
এবার বলি তারিখটার মাহাত্ম্য। ২০ জুন, শনিবার। শনি কিন্তু ঠুনকো ব্যাপার নয়। ইনি কর্মফলের দেবতা। ইনি সম্পর্কের অহংকার ভেঙে বাস্তব দেখান, কিন্তু যাঁরা সৎ পথে থাকেন, তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যও দেন। মা ষষ্ঠী আর শনি একসঙ্গে— এর মানে দাঁড়ায়, এ বছরের পূজায় শুধু আবেগ নয়, দায়িত্বটাও সামনে আসছে। মেয়ে-জামাইয়ের সংসারে টাকা টেঁকছে না? কাজ আটকে আছে? সন্তান হচ্ছে না? পরিবারে অশান্তি? এগুলো শুধু টোটকা করলেই সারে না, সঙ্গে আচরণে বদল আনতে হবে। আর এই বিশেষ দিনটি সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে ভালো সুযোগ।
মনে রাখবেন, আমি কিন্তু তন্ত্রের নামে আজেবাজে কিছু বলব না। আমরা যে প্রতিকার করব, সবই শান্তিপূর্ণ, মন্ত্র-ভিত্তিক, আর সবার কল্যাণের জন্য। কারও ক্ষতি করার চিন্তা কেউ করবেন না। এতে নিজেরই সর্বনাশ হয়। আমরা প্রকৃত তন্ত্র বলতে বুঝি— রক্ষা, শুদ্ধি আর আশীর্বাদ।
জামাইষষ্ঠীর আগে ঘরের পরিবেশ তৈরি করুন
জামাইষষ্ঠীর সকালে বা আগের দিন সন্ধ্যায়, বাড়িটা একবার মন দিয়ে পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব কোণ, পুজোর জায়গা আর রান্নাঘর— এই জায়গাগুলো পরিছন্ন রাখবেন। পরিষ্কার করতে করতে মনে মনে বলতে থাকুন, “এই ঘরের সব অশান্তি, দারিদ্র্য, ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যাক। মা ষষ্ঠী, তুমি আশীর্বাদ করো।”
একটা ছোট প্রদীপ জ্বালিয়ে দিন মা ষষ্ঠী কিংবা আপনার ইষ্টদেবতার সামনে। কর্পূর জ্বাললে পরিবেশ হালকা হয়। নিজে ভালো থাকবেন, জামাই আসার পর বাড়ির ভারী ভাবটা কেটে যাবে। এটা কোনো বাহুল্য নয়, এ হল আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যবিধি।
মা ষষ্ঠীর মন্ত্র ও প্রার্থনা— খুব সহজভাবে করুন
মায়ের কাছে দরবার করার জন্য কোনও জটিল আয়োজন লাগে না। একটা প্রদীপ জ্বালিয়ে, সামনে একটু চাল, দূর্বা, হলুদ আর একটি ফুল রেখে বলুন—
“হে মা ষষ্ঠী, সন্তানের রক্ষাকর্ত্রী, পরিবারের জননী, আমার মেয়ে ও জামাইয়ের সংসারে শান্তি দাও, আয়ু দাও, স্বাস্থ্য দাও, কর্মে উন্নতি দাও, সন্তানসুখ ও গৃহসুখ দাও। অশুভ দৃষ্টি, ভুল বোঝাবুঝি, দারিদ্র্য আর বাধা দূর করো। মা, তোমার আশীর্বাদে পরিবার বাঁচুক।”
এই প্রার্থনা তিন, পাঁচ বা এগারো বার বললেই চলবে। ভক্তি থাকলেই হল। আর মন্ত্র হল:
ওঁ হ্রীং ষষ্ঠীদেব্যৈ নমঃ।
এটি ১১ বার জপ করুন। বেশি করতে পারেন ১০৮ বার। তবে নিয়মিত জপ না করলেও ক্ষতি নেই, অল্প কিন্তু ভক্তি করেই বলুন।
দাম্পত্য সুখ আর শান্তির জন্য সহজ তান্ত্রিক প্রতিকার
এই প্রতিকারটা একেবারে নিরাপদ, বরং ভালোবাসার পরশ বাড়ায়। একটা ছোট পাত্রে নিন সামান্য আতপ চাল, একটু হলুদ, দূর্বা, একটা সুপারি আর একটা সাদা বা হলুদ ফুল। মা ষষ্ঠীর ছবির সামনে রেখে মেয়ে-জামাইয়ের নাম মনে মনে নিয়ে বলুন, “মায়ের কৃপায় ওদের সংসারে শান্তি, সম্মান, ভালোবাসা ও স্থিরতা থাকুক।”
এবার একটি হলুদ সুতো নিন। ওটা মায়ের সামনে রেখে “ওঁ হ্রীং ষষ্ঠীদেব্যৈ নমঃ” ১১ বার জপ করুন। জপ শেষ হলে সেই সুতোটি জামাইয়ের হাতে বেঁধে দিন। বাঁধার সময় বলবেন, “মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে তোর আয়ু, স্বাস্থ্য, কর্মসাফল্য আর সংসারসুখ যেন অটুট থাকে।”
এতে কোনও বশীকরণ হয় না। এটা মঙ্গলময় আশীর্বাদ, শুদ্ধ আচার। আমি নিজে বহু শাশুড়িকে এই কাজ করিয়েছি, যাঁরা মেয়ে-জামাইয়ের অনর্থক ঝগড়ায় ভুগছিলেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের কাঁটা সরে গেছে।
জামাইয়ের কর্মজীবনে উন্নতির প্রতিকার
জামাইয়ের চাকরি বা ব্যবসায় বাধা? চেষ্টা করেও সাফল্য পাচ্ছে না? এ বছরের জামাইষষ্ঠী যেহেতু শনিবার, তাই এটাই সুযোগ। মা ষষ্ঠীর পূজার পরে ঘি বা তিলের তেলের একটি প্রদীপ জ্বালান। এরপর ভগবান শিব বা শনিদেবের উদ্দেশে বলুন—
ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ।
মন্ত্রটি ২১ বার বা ১০৮ বার জপ করুন। এরপর বাড়ির বাইরে গিয়ে কোনও দরিদ্র, বয়স্ক বা শ্রমজীবী মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু খাবার, ফল বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিন। শনিবারের দিন এভাবে শনিকে দান করলে কর্মফলের বাধা ধীরে ধীরে কাটে। তবে মনে রাখবেন, শুধু প্রদীপ জ্বালিয়ে অফিসে গিয়ে ফাঁকি দিলে চলবে না। শনি চান পরিশ্রম আর ন্যায়। তাই প্রতিকারের পাশাপাশি কাজের নিষ্ঠা বাড়ান।
টাকা আটকে আছে? অর্থকষ্ট দূর করতে
হাতে টাকা থাকে না, ঋণ জমছে— এটি পরিবারের বড় যন্ত্রণা। জামাইষষ্ঠীর দিন মা ষষ্ঠী আর মা লক্ষ্মীর যুগ্ম আশীর্বাদ নিন। একটি ছোট থালায় সাজান: আতপ চাল, হলুদ, একটি কয়েন (চকচকে), পাঁচটি তুলসী পাতা বা যে কোনও পবিত্র পাতা, সামান্য মিষ্টি আর একটি হলুদ ফুল।
থালাটি মায়ের সামনে রেখে বলুন, “মা, এই ঘরে অন্ন, লক্ষ্মী, শান্তি আর সঞ্চয়ের শক্তি বাড়ুক। অপ্রয়োজনীয় খরচ আর অর্থের অস্থিরতা দূর হোক।” এবার জপ করুন “ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ” ২১ বার বা ১০৮ বার। পূজা শেষে কোনও গরিব শিশু বা অসহায় মানুষকে মিষ্টি বা খাবার দান করুন। আমি নিজে দেখেছি, এই সাধারণ কাজটা অদ্ভুত রেজাল্ট দেয়, যদি বিশ্বাস রেখে করা হয়।
নজরদোষ ও অশুভ দৃষ্টি কাটানোর নিরাপদ প্রতিকার
অনেক সময় বাইরের লোকের ঈর্ষা বা নেতিবাচক দৃষ্টি মেয়ে-জামাইয়ের সুখ কেড়ে নেয়। হঠাৎ অসুখ, কাজ বন্ধ, ঝগড়া— এগুলো নজরের লক্ষণ হতেই পারে। জামাইষষ্ঠীর দিন একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে মা কালী বা মা ষষ্ঠীর সামনে বসুন। একটি ছোট পাত্রে সামান্য নুন, কালো তিল আর আতপ চাল নিন। পাত্রটি পুজোর জায়গায় রেখে প্রার্থনা করুন, “মা, অশুভ দৃষ্টি, হিংসা, ভয় আর নেগেটিভ শক্তি দূর করে দাও। পরিবারকে সব দিক থেকে রক্ষা করো।”
মন্ত্র: ওঁ ক্রীং কালিকায়ৈ নমঃ। ১১ বার জপ করুন। পরের দিন ওই নুন-তিল কিছু মানুষের গায়ে লাগাবেন না বা অদ্ভুত আচার করবেন না। নিরাপদে জলে বিসর্জন দিন বা মাটিতে আলাদা করে ফেলুন। উদ্দেশ্য শুধু শুদ্ধি, কুসংস্কার নয়।
সন্তানসুখ ও বংশবৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা
বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর, অথচ সন্তান আসছে না? অথবা সন্তান অসুস্থ থাকে? মা ষষ্ঠীই তখন একমাত্র ভরসা। জামাইষষ্ঠীর দিন মায়ের সামনে দুধ, কলা, ফল, মিষ্টি আর দূর্বা নিবেদন করুন। প্রাণভরে বলুন, “মা, সন্তানসুখ দাও, সন্তানের স্বাস্থ্য রক্ষা করো, আমার পরিবারে বংশের ধারা রক্ষা করো।”
মন্ত্র “ওঁ হ্রীং ষষ্ঠীদেব্যৈ নমঃ” ১০৮ বার জপ করা খুব শুভ। তবে সন্তানের বিষয়ে কুণ্ডলী না দেখে বড় কোনও প্রতিকার করবেন না। পঞ্চম ভাব, বৃহস্পতি, চাঁদ, আর দশা বিচার করে তবেই উপায় ঠিক করতে হয়। এটা বলে রাখছি, যাতে অন্ধ আচার থেকে সবাই দূরে থাকেন।
জামাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ফোঁটা
হলুদ, দই আর দূর্বা দিয়ে ফোঁটা দেওয়া খুব পুরনো রেওয়াজ। হলুদ মঙ্গলের প্রতীক, দই শান্তির, আর দূর্বা আয়ুর। ফোঁটা দেওয়ার সময় জামাইয়ের কপালে হাত রেখে বলুন, “মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে তোর আয়ু, স্বাস্থ্য, কর্মসাফল্য আর মানসিক শান্তি যেন বৃদ্ধি পায়।” চাইলে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ১১ বার জপ করতে পারেন: “ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্। উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাত্।” এতে শিবের শক্তি পরিবারকে ঢেকে রাখে।
ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে
মেয়ে আর জামাইয়ের মধ্যে ইগো, তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ, সন্দেহ— এগুলো সংসার নষ্ট করে। জামাইষষ্ঠীর দিনে মা ষষ্ঠীর সামনে দুটি প্রদীপ জ্বালান— একটা মেয়ের জন্য, একটা জামাইয়ের জন্য। প্রদীপ দুটি পাশাপাশি রাখুন, কিন্তু মাঝখানে সামান্য হলুদ চাল বা ফুল রাখুন। এ যেন দুই জনের মাঝে মায়ের আশীর্বাদ। প্রার্থনা করুন, “কথার ভুল, অভিমান, সন্দেহ আর অহংকার দূর হোক। সংসারে শান্তি আর বোঝাপড়া বাড়ুক।” মন্ত্র নিন “ওঁ নমো নারায়ণায়” ২১ বার জপ করুন। নারায়ণ শান্তির দেবতা, সংসারে স্থিরতা আনেন।
কী কী দান করবেন
ফল, মিষ্টি, আতপ চাল, হলুদ ডাল, হলুদ বস্ত্র, সাদা মিষ্টি, দুধ, দরিদ্র শিশুর জন্য খাবার, বয়স্ক অসহায় মানুষের জন্য যা দরকার। শনিবার হওয়ায় কালো তিল ও তিলের দানও অত্যন্ত শুভ। তবে মনে রাখবেন, দান যেন প্রদর্শন না হয়। নিঃশব্দে গরিবকে দেবেন। নিজের সংসারের প্রয়োজন ফেলে বা ধার করে দান নয়।
যেসব থেকে দূরে থাকবেন
অহংকার, মেয়ে-জামাইকে অপমান, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কু-মন্তব্য, মিথ্যে কথা, অকারণ রাগ, তৃতীয় ব্যক্তিকে দাম্পত্যে টেনে আনা, লোক দেখানো খরচ, আর কারও ক্ষতি চাওয়া। জামাইষষ্ঠীর দিন মুখের ভাষা আর মনের ভাব দুটোই পরিষ্কার রাখতে পারলেই বড় প্রতিকারের চেয়েও বেশি ফল পাবেন।
শনিবারের বিশেষ সন্ধ্যা প্রতিকার
শেষে বলি, যেহেতু এবার শনিবার, সন্ধ্যায় একটি বিশেষ শান্তি প্রতিকার করতে পারেন। একটি মাটির প্রদীপে তিলের তেল দিন। পাশে রাখুন সামান্য কালো তিল। ভগবান শিব, শনিদেব বা মা কালীর সামনে বসে জপ করুন “ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ” ২১ বার। তারপর প্রার্থনা করুন, “পরিবারের কর্মদোষ, অশান্তি, অর্থের বাধা আর ভুল বোঝাবুঝি দূর হোক। মা ষষ্ঠী ও শনিদেবের কৃপায় আমাদের সংসারে দায়িত্ব, শান্তি আর সমৃদ্ধি আসুক।” কালো তিল পরের দিন দান করবেন।
জন্মকুণ্ডলী না দেখে বড় প্রতিকার নয়
উপরে যে উপায়গুলি বললাম, এগুলি সাধারণ এবং নিরাপদ। কিন্তু কারও যদি চরম অর্থকষ্ট, সন্তান না হওয়া, বিবাহ-বিচ্ছেদের ঝুঁকি, শনি-রাহুর কঠিন দশা বা পিতৃদোষের লক্ষণ থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ কুণ্ডলী বিচার করাতে হবে। পঞ্চম, সপ্তম, নবম, দশম ভাব, চন্দ্রের অবস্থা, দশা-অন্তর্দশা— না দেখে প্রতিকার দিলে উল্টো ফল হতে পারে। তাই জরুরি সমস্যায় অবশ্যই ব্যক্তিগত পরামর্শ নিন।
আমি, জয়দেব শাস্ত্রী, কত কত পরিবার দেখেছি, যারা শুধু লোকাচার আর ভুল পরামর্শ মেনে আরও বিপদ ডেকে এনেছে। আপনার জীবনের জটিলতা আপনাকে বুঝতে হবে, তারপর মায়ের আশীর্বাদ চাইতে হবে।
জামাইষষ্ঠী আসলে প্রেম আর দায়িত্বের উৎসব। খাওয়া-দাওয়া হবে, উপহার আসবে, কিন্তু সেই সঙ্গে একটা প্রতিজ্ঞা নেবেন— আমার মেয়ে-জামাইয়ের সুখের জন্য আমি সৎ থাকব, দরকারে পাশে দাঁড়াব, আর কারও অমঙ্গল চাইব না। এই একটাই মা ষষ্ঠীর কাছে সবচেয়ে বড় নিবেদন।
যাঁরা দূরের পথে, আসতে পারছেন না, তাঁরাও মন থেকে মায়ের কাছে প্রার্থনা করবেন। দূরত্ব কিছুই যায় আসে না, আশীর্বাদ পৌঁছে যায় ভালোবাসার তার বেয়ে।
মা ষষ্ঠী আপনাদের সকলের ঘরে শান্তি, সন্তান, সমৃদ্ধি আর অটুট প্রেম দিন। জয় মা ষষ্ঠী। জয় মা কালী। জয় শ্রী শনি মহারাজ।
Accurate Predictions • Effective Remedies • Trusted Guidance
AI Astro World – Ancient Wisdom Powered By AI
আচার্য জ্যোতিষ অধ্যাপক শ্রী জয়দেব শাস্ত্রী মহারাজ
51 Kalibari Temple, Sarada Pally, Madhyamgram
যোগাযোগ: 9903609484
ওয়েবসাইট: 51kalibari.com
AI Astrology Platform: www.aiastroworld.com