পিতৃপক্ষ হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় পূর্বপুরুষদের স্মরণ, শ্রদ্ধা, তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও দানের জন্য বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ সালে প্রতিপদ শ্রাদ্ধ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে সর্বপিতৃ অমাবস্যা ১০ অক্টোবর-এ শেষ হবে।
এই সময়ের মূল ভাবনা হলো—আড়ম্বর ও ব্যক্তিগত ভোগের পরিবর্তে পূর্বপুরুষদের স্মরণ, সংযম, দান ও ধর্মীয় কর্তব্যে মন দেওয়া।
তাই এই সময় কিছু কাজ অনেক পরিবার ও ধর্মীয় পরম্পরায় এড়িয়ে চলা হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, সব নিয়ম সব সম্প্রদায় বা পরিবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।
👕 ১. পিতৃপক্ষে নতুন পোশাক কেনা কি এড়িয়ে চলা উচিত?
অনেক হিন্দু পরিবারে পিতৃপক্ষ চলাকালীন নতুন পোশাক, দামি গয়না বা বিলাসবহুল জিনিস কেনা স্থগিত রাখার প্রচলন রয়েছে।
এর মূল ভাবনা হলো—এই সময়টি ব্যক্তিগত সাজসজ্জা বা উৎসবের পরিবর্তে পূর্বপুরুষের স্মরণ ও ধর্মীয় আচারে মনোনিবেশের সময়।
তবে এটিকে সবার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় পোশাক বা জরুরি জিনিস কিনতেই হলে সেটিকে অশুভ বলে ভয় পাওয়ার কোনও সর্বজনীন ভিত্তি নেই। ধর্মীয় রীতির ক্ষেত্রে পরিবার ও সম্প্রদায়ভেদে পার্থক্য রয়েছে।
👉 সহজ কথা:
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন, প্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন।
💍 ২. সোনা-রুপোর গয়না ও বিলাসবহুল কেনাকাটা
অনেক পরিবার পিতৃপক্ষে নতুন সোনা-রুপোর গয়না, দামি সামগ্রী বা বিলাসবহুল দ্রব্য কেনা পিছিয়ে রাখে।
কারণ এই সময়টিকে সাধারণত সংযম ও স্মরণের সময় হিসেবে পালন করা হয়, উৎসব বা ব্যক্তিগত ভোগের সময় হিসেবে নয়।
💒 ৩. বিয়ে বা বড় মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান
বিয়ে, গৃহপ্রবেশ, বড় উৎসব বা নতুন সূচনার মতো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পিতৃপক্ষের সময়ে পিছিয়ে রাখার প্রচলন রয়েছে।
এর কারণ, পিতৃপক্ষের ধর্মীয় আবহ মূলত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ ও স্মরণকে কেন্দ্র করে। তাই অনেক পরিবার এই সময় আনন্দ-উৎসবের পরিবর্তে পিতৃকর্মকে অগ্রাধিকার দেয়।
🏠 ৪. নতুন বাড়ি, গাড়ি বা বড় সম্পত্তি কেনা
নতুন বাড়ি, গাড়ি, জমি বা অন্যান্য বড় সম্পদ কেনার মতো বিষয়কেও অনেক পরিবার এই সময় এড়িয়ে চলে।
তবে “পিতৃপক্ষে কিনলেই নিশ্চিত অমঙ্গল হবে”—এমন সর্বজনীন ধর্মীয় নিয়ম হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি পারিবারিক ও আঞ্চলিক রীতির ওপর নির্ভর করে।
💇 ৫. চুল ও নখ কাটার রীতি
পিতৃপক্ষ বা শ্রাদ্ধের দিনগুলিতে চুল-দাড়ি-নখ কাটার মতো ব্যক্তিগত সাজসজ্জা এড়িয়ে চলার রীতি বহু পরিবারে দেখা যায়।
বিশেষ করে যে পরিবার নির্দিষ্ট শ্রাদ্ধাচার পালন করে, সেখানে পরিবারের পুরোহিত বা প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করাই শ্রেয়।
🍽️ ৬. খাবারের ক্ষেত্রে সংযম
পিতৃপক্ষের সময় অনেক পরিবার সাত্ত্বিক ও সহজ খাবার গ্রহণের রীতি পালন করে। মাংস, মাছ, ডিম বা মদ্যপান এড়িয়ে চলার প্রচলনও রয়েছে কিছু পরিবারে।
তবে খাদ্যসংক্রান্ত নিয়ম অঞ্চল, সম্প্রদায় ও পারিবারিক আচারের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এটিকে সবার জন্য একই কঠোর নিয়ম বলা উচিত নয়।
🐄 ৭. পশুপাখিকে খাবার দেওয়া
পিতৃপক্ষে দান, অন্নদান এবং জীবের প্রতি সহমর্মিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে অনেক ধর্মীয় পরম্পরায় মনে করা হয়।
তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী মানুষকে খাবার দেওয়া কিংবা পশুপাখিকে খাবার দেওয়াকে এই সময়ের মানবিক ও ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
🪔 ৮. পিতৃকর্মকে অগ্রাধিকার দিন
এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নতুন কী কিনবেন বা কী কিনবেন না—তা নয়।
বরং—
✅ পূর্বপুরুষদের স্মরণ
✅ যথাযথ তিথিতে শ্রাদ্ধ
✅ তর্পণ
✅ সামর্থ্য অনুযায়ী দান
✅ অন্নদান
✅ পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান
✅ সংযম ও শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা
—এই বিষয়গুলির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পিতৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্যই পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণ।
ASTROLOGER JOYDEV SASTRI
আচার্য জ্যোতিষ অধ্যাপক শ্রী জয়দেব শাস্ত্রী মহারাজ
জ্যোতিষ • বাস্তু • তন্ত্র • সংখ্যাতত্ত্ব • ট্যারোট • আধ্যাত্মিক পরামর্শ
📞 9831498860 | 9831498861
🌐 www.51kalibari.com | AiAstriWorld.com
সঠিক দিশা • সুন্দর আগামীর পথে
দ্রষ্টব্য: পিতৃপক্ষের অনেক আচরণ শাস্ত্রীয় পরম্পরা, অঞ্চল, সম্প্রদায় ও পারিবারিক রীতিভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই কোনও একটি প্রচলিত নিয়মকে সকল হিন্দুর জন্য সর্বজনীন বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত “অশুভ” হিসেবে ধরা উচিত নয়।