সন্ধ্যে নামছে, আকাশে লাল আভা মিলিয়ে আসছে, আর ঠিক সেই সময়টিতে আপনি যদি বাজার থেকে কিছু জিনিস কিনে ঘরে ফেরেন, তাহলে থামুন একবার। জ্যোতিষাচার্য জয়দেব শাস্ত্রী সাবধান করছেন, সূর্যাস্তের পর কিছু নির্দিষ্ট জিনিস কেনা বা বাড়িতে নিয়ে আসা চরম অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে। এই সময়টা আসলে দিন-রাতের সন্ধিক্ষণ, যখন গৃহে লক্ষ্মীদেবী ও শুভশক্তির আগমন ঘটে এবং ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধ্যারতি করা হয়। এমন পবিত্র লগ্নে বাজারঘাট করে কিছু জিনিস কিনে আনলে শুধু যে লক্ষ্মীদেবী রুষ্ট হন তাই নয়, একাধিক বাস্তুদোষও সংসারে বাসা বাঁধতে শুরু করে। কী সেই পাঁচ জিনিস, যা সূর্যাস্তের পর কিনে ঘরে ঢোকা মানেই নিজের হাতে দুর্ভাগ্যকে আমন্ত্রণ জানানো, সেটাই পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন আমাদের প্রিয় জ্যোতিষাচার্য।
প্রথমেই আসে দুধ, দই বা চিনির মতো সাদা রঙের খাদ্যদ্রব্যের কথা। জ্যোতিষাচার্য জয়দেব শাস্ত্রীর মতে, এই সাদা খাবারগুলি শুক্র গ্রহ ও চন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যা জীবনে শীতলতা, মাধুর্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। কিন্তু সূর্যাস্তের পর এগুলি কিনলে চন্দ্র ও শুক্রের শুভ শক্তি দুর্বল হয়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পারিবারিক সম্পর্কে। ছোটখাটো কারণে অশান্তি, বিনা কারণে মনোমালিন্য এবং আকস্মিক আর্থিক টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।
এর পরেই যে জিনিসটি নিয়ে জ্যোতিষাচার্য সবচেয়ে বেশি সতর্ক করছেন, তা হলো সর্ষের তেল। অনেকের বাড়িতেই সন্ধ্যার পর মুদিখানা থেকে তেল কিনে আনার অভ্যাস আছে, কিন্তু এটাই নাকি সবচেয়ে বড় ভুল। সর্ষের তেল সরাসরি শনিদেবের সঙ্গে যুক্ত। সন্ধ্যার পর এটি কিনে বাড়ির চৌকাঠ পেরোলেই যেন শনির অশুভ ছায়া ঘরে প্রবেশ করে, বিশেষ করে যদি দিনটি শনিবার হয় তবে তো কথাই নেই। এই অভ্যাস নাকি অর্থনৈতিক জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক সংকট তৈরি করে।
তৃতীয় জিনিসটি হলো ছুরি, কাঁচি বা যেকোনো ধারালো বস্তু। জ্যোতিষাচার্য জয়দেব শাস্ত্রী পরিষ্কার বলছেন, সন্ধ্যার অন্ধকারে ধারালো জিনিস কেনা মানে সম্পর্কে ফাটল ধরার ইঙ্গিত। এটি পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি এবং ভালোবাসার সম্পর্কে গভীর অবনতি ঘটাতে পারে। শুধু কেনা নয়, কেউ যদি সন্ধ্যার পর এ ধরনের জিনিস উপহারও দেয়, তবে তা গ্রহণ করতেও বারণ করছেন তিনি।
এর পরের জিনিসটি হলো নুন, যাকে জ্যোতিষশাস্ত্রে লক্ষ্মীর প্রতীক ধরা হয়। সাদা এই দানাদার জিনিসটি ঘরে সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। সূর্যাস্তের পর নুন কিনলে বা কাউকে নুন ধার দিলে, একপ্রকার নিজের ঘরের লক্ষ্মীকে বিদায় জানানো হয়। এর ফলে হাতে টাকা আসা আটকে যায়, সঞ্চয় কমতে থাকে এবং ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। তাই সন্ধ্যার পর কখনোই নুন কেনা বা ধার দেওয়ার ভুল করবেন না।
সবশেষে যে জিনিসটি নিয়ে জ্যোতিষাচার্য সতর্ক করছেন, সেটি হলো ঝাঁটা। আমাদের সমাজে ঝাঁটাকে লক্ষ্মীর আসন হিসাবে গণ্য করা হয়। সূর্যাস্তের পর নতুন ঝাঁটা কেনা বা পুরনো ঝাঁটা দিয়ে ঘর পরিষ্কার করা মানে মা লক্ষ্মীর প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন। এর ফলে গৃহকর্তার ভাগ্যে নেমে আসে নেতিবাচক শক্তির গাঢ় প্রভাব, ঘরে অলক্ষ্মী বাসা বাঁধে এবং একের পর এক বাস্তুদোষ দেখা দিতে থাকে।
জ্যোতিষাচার্য জয়দেব শাস্ত্রীর শেষ পরামর্শ, সূর্যাস্তের আগেই বাজার সেরে ফেলুন, আর সন্ধ্যে নামলে প্রদীপ জ্বালিয়ে নীরব প্রার্থনায় বসুন। কারণ এই ছোট্ট ভালো অভ্যাসই আপনার ঘরকে রাখবে অশুভ ছায়া ও বাস্তুদোষ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।