Skip to Content

বাড়ির মন্দিরে শিবলিঙ্গের পাশে মা কালীর ছবি রেখেছেন?

তন্ত্র, আগম ও বাস্তু শাস্ত্র বলছে—এই ভুলে ধ্বংস হতে পারে সংসারের শক্তির ভারসাম্য ✦ বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা: Astrologer Joydev Sastri ✦
19 ডিসেম্বর, 2025 by
বাড়ির মন্দিরে শিবলিঙ্গের পাশে মা কালীর ছবি রেখেছেন?
জয়দেব শাস্ত্রী । ৫১কালিবাড়ি

এক রাতের অশান্তি, আর শাস্ত্র খুলে দিল গৃহমন্দিরের গোপন রহস্য

শিবলিঙ্গের পাশে মা কালীর ছবি—ভক্তি না কি অজান্তে ডেকে আনা শক্তির সংঘর্ষ?

নিজস্ব প্রতিনিধি | ধর্ম ও জ্যোতিষ বিশেষ প্রতিবেদন

✦ শাস্ত্র বিশ্লেষণ: Astrologer Joydev Sastri

কলকাতার এক অভিজাত পাড়ার সেই বাড়িটি বাইরে থেকে দেখলে নিখুঁত—পরিচ্ছন্ন, সাজানো, নিয়মিত পূজার ধূপের গন্ধে ভরা। তবু গত কয়েক মাস ধরে বাড়িটিতে যেন অদৃশ্য অশান্তি বাসা বেঁধেছে। সামান্য কথায় ঝগড়া, গভীর রাতে অকারণ দুশ্চিন্তা, সন্তানদের পড়াশোনায় মন না বসা, আর সংসারে হঠাৎ হঠাৎ অর্থনৈতিক চাপ।

বাড়ির কর্তা প্রথমে ভেবেছিলেন—এ সবই জীবনের সাধারণ ওঠানামা। কিন্তু এক রাতে সব বদলে গেল।

সেই রাতে, গৃহকর্তা স্বপ্নে দেখলেন—এক অদ্ভুত নীরব শ্মশান। মাঝখানে এক জ্বলন্ত শিবলিঙ্গ। আর ঠিক তার পাশেই দাঁড়িয়ে মা কালী—রক্তজিহ্বা, উন্মুক্ত চক্ষু, তীব্র দৃষ্টি। দু’জনের মাঝখানে যেন বিদ্যুতের মতো টান। ঘুম ভেঙে যায় তাঁর।

পরদিনই তিনি দ্বারস্থ হলেন এক অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর কাছে।

শাস্ত্রের প্রথম প্রশ্ন: “আপনার গৃহমন্দিরে কারা একসঙ্গে আছেন?”

এই একটি প্রশ্নেই ধরা পড়ে গেল আসল রহস্য।

গৃহমন্দিরে একই সিংহাসনে ছিল—

  • একটি শিবলিঙ্গ
  • তার ঠিক পাশেই মা কালীর ছবি

ভক্তির দিক থেকে এতে কোনও ভুল নেই—এটাই ভেবেছিলেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু শাস্ত্র বলছে, ভক্তি আর বিধি এক জিনিস নয়

শিবতত্ত্ব: নীরব, স্থির, নিরাকার

উপনিষদে বলা হয়েছে—

“শিবঃ কেবলং চৈতন্যম্”

শিব মানে চেতনা, স্থিরতা, নীরবতা।

শিবলিঙ্গ কোনও সাধারণ মূর্তি নয়। এটি সৃষ্টি–স্থিতি–লয়ের মূল স্তম্ভ। শিবলিঙ্গ যেখানে থাকে, সেখানে শক্তি ধীরে প্রবাহিত হয়—ঠিক পাহাড়ি নদীর গভীর স্রোতের মতো। এই শক্তি মানুষের মধ্যে—

  • ধৈর্য
  • আত্মসংযম
  • মানসিক স্থিতি
    জাগিয়ে তোলে।

এই কারণেই শিবলিঙ্গের পূজা সর্বদা শান্ত, সংযত ও নিয়মমাফিক হওয়া আবশ্যক।

শক্তিতত্ত্ব: মা কালী কেন এত উগ্র?

অন্যদিকে তন্ত্রশাস্ত্র বলছে—

“শক্তি বিনা শিবঃ শবঃ”

মা কালী হলেন সেই শক্তি, যিনি জড়তাকে ভেঙে দেন। তিনি যুদ্ধ করেন, সংহার করেন, অশুভ শক্তিকে মুহূর্তে বিনাশ করেন। তাঁর শক্তি আগুনের মতো—দ্রুত, তীব্র, অপ্রতিরোধ্য।

এই শক্তি যেখানে বসে, সেখানে—

  • পরিবর্তন দ্রুত হয়
  • ফল ত্বরিত আসে
  • কিন্তু সহ্যক্ষমতা না থাকলে ক্ষতিও হয় দ্রুত

যখন দুই বিপরীত শক্তি একই সিংহাসনে

শাস্ত্রের ভাষায় একে বলা হয়—শক্তিসংঘর্ষ (Energy Conflict)

শিবের স্থির শক্তি আর কালীর গতিশীল শক্তি একত্রে থাকলে বাড়িতে তৈরি হয়—

  • কম্পনের অসামঞ্জস্য
  • মানসিক অস্থিরতা
  • সিদ্ধান্তে দ্বন্দ্ব
  • সম্পর্কের টানাপোড়েন

এ সবই ধীরে ধীরে ঘটে। তাই মানুষ বুঝতেই পারে না, সমস্যার উৎস কোথায়।

আগম ও বাস্তু শাস্ত্র কী বলছে?

আগম শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে—

“উগ্র ও শান্ত দেবতত্ত্ব এক আসনে স্থাপন অনুচিত।”

বাস্তু শাস্ত্র যোগ করে বলছে—

  • শিবলিঙ্গ উত্তর-পূর্বে
  • শক্তির উগ্র রূপ দক্ষিণ বা নির্দিষ্ট তন্ত্রস্থানে

এই নিয়ম ভাঙলে ঘরে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়।

শুধু শিব ও কালী নয়—আরও নিষিদ্ধ সংযোগ

গল্পের সেই বাড়ির ঘটনাটি শুধু একটি উদাহরণ। শাস্ত্র আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলে—

🔸 হনুমান ও শনিদেব

পুরাণে সম্পর্ক থাকলেও গৃহস্থ জীবনে এঁদের একত্রে রাখা অনুচিত। এতে কর্মজীবনে বাধা ও মানসিক চাপ বাড়ে।

🔸 লক্ষ্মী ও উগ্র শক্তি

লক্ষ্মীর শান্ত তত্ত্বের পাশে কালী বা চণ্ডীর ভয়ংকর রূপ রাখলে অর্থ আসে, কিন্তু থাকে না।

🔸 একই দেবতার একাধিক রূপ

একাধিক গণেশ বা শিব—শক্তি বিভক্ত হয়ে যায়, জীবনে স্থায়িত্ব কমে।

সমাধান কী?

সেই বাড়িতে কী করা হয়েছিল জানেন?

  • শিবলিঙ্গকে আলাদা স্থানে স্থাপন করা হয়
  • মা কালীর ছবি সরিয়ে তন্ত্রসম্মত স্থানে রাখা হয়
  • ২১ দিন শান্ত শিবপূজা ও কালীমন্ত্র জপ করা হয়

মাত্র এক মাসের মধ্যেই—

  • ঝগড়া কমে
  • ঘুম ফিরে আসে
  • সংসারে স্থিতি ফেরে

উপসংহার: ভক্তি থাকুক, কিন্তু শাস্ত্র মেনে

এই গল্প কোনও ভয় দেখানোর জন্য নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়—

গৃহমন্দির হল সূক্ষ্ম শক্তির বিজ্ঞান। এখানে আবেগ নয়, বিধিই শেষ কথা।

ভক্তি কখনও অশুভ নয়। কিন্তু শাস্ত্রজ্ঞান ছাড়া ভক্তি অনেক সময় অজান্তেই কষ্টের কারণ হয়ে ওঠে।

✦ আরও এমন শাস্ত্রভিত্তিক গল্প, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জ্যোতিষ বিশ্লেষণের জন্য ✦

JD Astrology Institute & Consultation

Astrologer Joydev Sastri

বাড়ির মন্দিরে শিবলিঙ্গের পাশে মা কালীর ছবি রেখেছেন?
জয়দেব শাস্ত্রী । ৫১কালিবাড়ি 19 ডিসেম্বর, 2025
Share this post
Tags
Archive