Skip to Content

স্নানেই ধুয়ে যাবে গ্রহের কুপ্রভাব? এক বালতি জলে এক চিমটে ‘বিশেষ বস্তু’ মিশিয়েই খুলতে পারে সৌভাগ্যের দরজা

শাস্ত্রমতে জল শুধু শরীর পরিষ্কার করে না, ভাগ্যও পরিশুদ্ধ করে - জয়দেব শাস্ত্রী
29 জানুয়ারী, 2026 by
স্নানেই ধুয়ে যাবে গ্রহের কুপ্রভাব? এক বালতি জলে এক চিমটে ‘বিশেষ বস্তু’ মিশিয়েই খুলতে পারে সৌভাগ্যের দরজা
জয়দেব শাস্ত্রী । ৫১কালিবাড়ি

মানুষের জীবনে সমস্যা আসা নতুন কিছু নয়। কখনও অর্থকষ্ট, কখনও সম্পর্কের জটিলতা, কখনও কর্মক্ষেত্রে বাধা—সব মিলিয়ে মনে হয় যেন সব কিছু একসঙ্গে উল্টো পথে হাঁটছে। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এর পেছনে অনেক সময় কোষ্ঠীতে গ্রহের দুর্বল অবস্থান দায়ী থাকে। জন্মছকে কোনও গ্রহ অশুভ স্থানে থাকলে তার প্রভাব পড়ে আমাদের চিন্তা, কর্মক্ষমতা এবং সৌভাগ্যের উপর।

তবে শাস্ত্র কেবল দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ব্রত, যজ্ঞ বা কঠিন টোটকার কথা বলে না। বরং দৈনন্দিন জীবনে সহজে পালনযোগ্য কিছু উপায়ের কথাও উল্লেখ করেছে। তার মধ্যেই অন্যতম হল—স্নানের জলে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান মিশিয়ে স্নান করা। এই পদ্ধতি যেমন সহজ, তেমনই মানসিকভাবে শান্তিদায়ক বলেও মনে করা হয়।

শাস্ত্রমতে জল শক্তির বাহক। সেই জলে নির্দিষ্ট বস্তু মিশিয়ে স্নান করলে শরীরের পাশাপাশি মনও শুদ্ধ হয়। এর মাধ্যমে গ্রহের কুপ্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

গ্রহদোষ ও তার প্রভাব

জ্যোতিষ মতে, মানুষের জীবনে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয়—

– কাজে বাধা

– সম্পর্কের টানাপোড়েন

– মানসিক অস্থিরতা

– অর্থনৈতিক সংকট

– অকারণ ভয় বা হতাশা

এই সবকিছুর পেছনেই অনেক সময় দুর্বল গ্রহ কাজ করে। যেমন সূর্য দুর্বল হলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি, চন্দ্র দুর্বল হলে মানসিক অস্থিরতা, মঙ্গল দুর্বল হলে কর্মশক্তির অভাব, বৃহস্পতি দুর্বল হলে ভাগ্য ও উন্নতির পথে বাধা দেখা দেয়।

এই কারণে শাস্ত্রে গ্রহশান্তির নানা উপায়ের কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে জলভিত্তিক উপায়কে সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ বলে ধরা হয়।

কোন গ্রহের দোষ কাটাতে স্নানের জলে কী মেশাবেন?

☀️ সূর্য: আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের কারক

সূর্য শক্তিশালী হলে মানুষ দৃঢ়চেতা ও প্রভাবশালী হয়। কিন্তু সূর্য দুর্বল হলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি, পিতৃসংক্রান্ত সমস্যা ও কর্মক্ষেত্রে বাধা দেখা দেয়।

শাস্ত্রমতে, স্নানের জলে এলাচ বা কেশরের গুঁড়ো মিশিয়ে স্নান করলে সূর্যের প্রভাব শান্ত ও শক্তিশালী হয়। এটি মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস।

🌙 চন্দ্র: মনের অধিপতি

চন্দ্র মানুষের আবেগ ও মানসিক স্থিতির প্রতীক। চন্দ্র দুর্বল হলে অস্থিরতা, উদ্বেগ ও সিদ্ধান্তহীনতা বেড়ে যায়।

চন্দ্রকে শক্তিশালী করতে স্নানের জলে পঞ্চগব্য বা শঙ্খের গুঁড়ো মেশানোর কথা বলা হয়েছে। এতে মন শান্ত হয় এবং আবেগের ভারসাম্য বজায় থাকে বলে ধারণা।

🔥 মঙ্গল: সাহস ও কর্মশক্তির প্রতীক

মঙ্গল দুর্বল হলে মানুষ সাহস হারায়, কাজে উৎসাহ কমে যায় এবং জীবনে স্থবিরতা আসে।

মঙ্গলকে প্রসন্ন করতে শুকনো আদা, লাল চন্দন বা মৌরী স্নানের জলে মিশিয়ে স্নান করার বিধান রয়েছে। এতে কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং বাধা কাটে বলে বিশ্বাস করা হয়।

🌿 বুধ: বুদ্ধি ও বাণিজ্যের কারক

বুধ দুর্বল হলে বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়, ভুল সিদ্ধান্তের প্রবণতা বাড়ে।

শাস্ত্র অনুযায়ী, মধু, চালের গুঁড়ো বা আমলকি জলে মিশিয়ে স্নান করলে বুধ শক্তিশালী হয়। এতে চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি উন্নত হয়।

📿 বৃহস্পতি: ভাগ্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক

বৃহস্পতি শক্তিশালী হলে জীবনে সমৃদ্ধি ও জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। দুর্বল বৃহস্পতি জীবনে বারবার ব্যর্থতা ও হতাশা ডেকে আনে।

এই গ্রহকে প্রসন্ন করতে মুলেঠি বা সাদা সর্ষে স্নানের জলে মেশানোর কথা বলা হয়েছে। এতে ভাগ্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে বলে বিশ্বাস।

🌸 শুক্র: প্রেম ও দাম্পত্য সুখের কারক

শুক্র দুর্বল হলে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দাম্পত্যে অশান্তি দেখা দেয়।

শুক্রকে শান্ত রাখতে আমলকি, এলাচ বা জাফরান স্নানের জলে মিশিয়ে স্নান করা যেতে পারে। এতে সম্পর্কের মধুরতা বাড়ে বলে শাস্ত্র জানায়।

🪐 শনি: কর্মফলের দণ্ডাধিকারী

শনি কর্মফল অনুযায়ী ফল দেন। দুর্বল বা ক্রুদ্ধ শনি জীবনে দীর্ঘস্থায়ী বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শনির কুপ্রভাব কমাতে স্নানের জলে কালো তিল মেশানোর কথা বলা হয়েছে। এটি ধৈর্য ও স্থিতি বাড়াতে সাহায্য করে বলে ধারণা।

☊ রাহু: আকস্মিকতা ও বিভ্রান্তির প্রতীক

রাহুর প্রভাবে মানুষ হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সমাজে ভুল পথে যেতে পারে।

রাহুকে শান্ত রাখতে লোবান বা তিল জলে মিশিয়ে স্নান করার কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে।

☋ কেতু: বিচ্ছিন্নতা ও আধ্যাত্মিকতার গ্রহ

কেতু দুর্বল হলে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে, লক্ষ্যহীনতা বাড়ে।

কেতুকে প্রসন্ন রাখতে লোবান স্নানের জলে মেশানো যেতে পারে। এতে চরিত্রের দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক প্রবণতা বাড়ে বলে বিশ্বাস।

এই উপায় কি নিশ্চিত ফল দেয়?

শাস্ত্র স্পষ্টভাবে জানায়, এগুলি কোনও জাদু নয়। বরং মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির একটি পথ। এই উপায়গুলির মাধ্যমে মানুষ নিজের মনকে স্থির করে, ইতিবাচক ভাবনায় অভ্যস্ত হয় এবং জীবনের প্রতি আস্থা ফিরে পায়। ফলে পরোক্ষভাবে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে এবং সাফল্যের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

শেষ কথা

জল যেমন শরীরকে পরিষ্কার করে, তেমনই বিশ্বাস করা হয় যে সঠিক উপায়ে ব্যবহৃত জল মন ও ভাগ্যকেও শুদ্ধ করে। গ্রহদোষ থাকলে হতাশ না হয়ে শাস্ত্রে বর্ণিত সহজ উপায়গুলিকে নিজের দৈনন্দিন জীবনে জায়গা দেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে—সবচেয়ে বড় প্রতিকার হল কর্ম, ধৈর্য ও সৎ চেষ্টা।

গ্রহ আমাদের পথ দেখাতে পারে, কিন্তু পথ চলতে হয় আমাদেরই।

স্নানেই ধুয়ে যাবে গ্রহের কুপ্রভাব? এক বালতি জলে এক চিমটে ‘বিশেষ বস্তু’ মিশিয়েই খুলতে পারে সৌভাগ্যের দরজা
জয়দেব শাস্ত্রী । ৫১কালিবাড়ি 29 জানুয়ারী, 2026
Share this post
Tags
Archive